|
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাধীন 11 নং বৈরচুনা টাঙ্গন নদী বিধৌত দেশের উত্তরের কৃষি সমৃদ্ধ একটি জনপদ। প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট, প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত একটি এলাকা। কৃষিনির্ভর জীবিকা এলাকার মানুষকে করেছে ভাববিলাসী, নির্লিপ্ত, কিছুটা উদাসীন। প্রত্যন্ত এই গ্রামীন অঞ্চলে কোন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ ছিল শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কবির ভাষায় "দেখবো এবার জগৎটাকে" বলে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েন এলাকার কয়েকজন বন্ধু । ঝড় বৃষ্টির এক স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় বৈরচুনা বাজারের এক টেইলার্সের দোকানে তিন বন্ধু মিলে ইউনিয়নের বৃহত্তর 02 নং ওয়ার্ডে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে একজন প্রস্তাব করেন যে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হলে দাপ্তরিক কাজে দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যাক্তির প্রয়োজন, মর্মে আলোচনা স্বাপেক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী হিসাবে নিযুক্ত জনাব নুর মোহাম্মদ কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি সহমত প্রকাশ করেন এবং একসাথে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। কিছুদিন চলে তিন বন্ধুর আলাপ আলোচনা চা-আড্ডা এবং ঘরোয়া বৈঠক।
এরই মাঝে অফিস সহকারী নুর মোহাম্মদসহ তিন বন্ধু মিলে এলাকার প্রবিন শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী জনাব মোঃ নমীর উদ্দীন আহম্মেদের স্মরণাপন্ন হলে তিনি বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে একমত হয়ে তিন বন্ধুর প্রস্তাব সাদরে গ্রহন করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার বাসায় চা-নাস্তার ব্যবস্থ্যাসহ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তিতে এলাকার সুশীল সমাজ, শিক্ষানুরাগী, ও সমাজ সেবকদের নিয়ে একটি গণ- আলোচনার প্রস্তাব রাখেন। পূর্ব প্রস্তাবনার আলোকে অত্র এলাকার পাঁচগাছী বাজারে বিকাল বেলা একটি গণ-আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিন বন্ধুর উক্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এলেন আরো অনেকে। আজকের মতো নব্বইর দশকের প্রথমভাগে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু সংকল্প যেখানে স্থির, উদ্যম যেখানে অদম্য, সেখানে গিরিরাজিও লংঘিত হয় অনায়াসে। তাই নবজাতক হিসেবে "নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়" দেখলো দিনের আলো। 'সু-নাগরিকের জন্য সু-শিক্ষা' ও ‘শিক্ষিত মা শিক্ষিত জাতি’ মূলনীতি ধারণ করে 1992'র এক শুভলগ্নে ঘটে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের উন্মেষ। শুরু হয় প্রস্তাবিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে জমি দাতার অনুসন্ধান। “কথায় আছে খুজলে খোদার নাগাল পাওয়া যায়” ঠিক তিন বন্ধুর স্বপ্ন পূরণে সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় এলাকার দানশীল 10জন ব্যাক্তির জমি দানের মাধ্যমে নওডাঙ্গা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রাথমিক রুপ লাভ করে। পরবর্তি এক আলোচনা সভায় এলাকার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবিণ আইনজীবি জনাব এ্যাডভোকেট মোঃ মারফত আলী নওডাঙ্গা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর “নওডাঙ্গা” শব্দটির পরে রেডিয়েন্ট কথাটি সংযোজন করে “নওডাঙ্গা” রেডিয়েন্ট নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় করার প্রস্তাব রাখেন এবং তার প্রস্তাবে নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ পদযাত্রা শুরু হয়। 1993-তে ছাত্র ভর্তির মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। কিন্তু এতো স্বপ্নের কণা মাত্র। পাড়ি দিতে হবে আরো অনেক অনেক পথ। নিম্ন-মাধ্যমিক থেকে পেতে হবে মাধ্যমিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ। ১৯92'র নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় জন্মলগ্ন পেরিয়ে টলমল পায়ে রুগ্ন-শীর্ণকায়ে এগুতে লাগলো ধীর গতিতে। 1993 সালে বিদ্যলয়টি পাঠদানের অনুমতি ও 1994 সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। 1995 সালে বিদ্যলয়ের শিক্ষক/কর্মচারীরা পায় তাদের বহুল কাঙ্কিত বেতন ভাতাদীর সরকারী অংশ। 1997 সালে 9ম শ্রেনীর পাঠদান অনুমতি ও 1998 সালে 10ম শ্রেণীর পাঠদানের অনুমতির মাধ্যমে স্বপ্নের নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগসহ নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। 2000 সালে মাধ্যমিক স্থরেরে এমপিও ভূক্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিপূর্ণতা পায়। 1999 সালের এসএসসি পরীক্ষায় 20 জন পরীক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় সর্ব প্রথম অত্র বিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের পদযাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্যবদি বিদ্যালয়টি এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্কিত ফলাফল অর্জন করে আসছে। 2007 সালের এসএসসি পরীক্ষায় 11নং বৈরচুনা ইউনিয়নের মধ্যে সর্ব প্রথম অত্র বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী দুলাল হোসেন জিপিএ-5 অর্জনের মাধ্যমে অত্র বিদ্যালয়ের নাম উজ্জল করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে 350 জনের অধিক শিক্ষার্থী ও 1৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে ও সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় নিকট ভবিষ্যতে পূর্ণতা লাভ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। এছাড়াও সদাশয় সরকার ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীবৃন্দের আন্তরিক সদিচ্ছার ছোয়া পেলে বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন ও ছাত্র/ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ। নানা চড়াই উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি 32 বছর পেরিয়ে এসেছে। নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়কে রত্নগর্ভা কিংবা স্বর্ণ প্রসবিনী বলা যায় কিনা জানিনা। তবে যা দিয়েছে তাও অকিঞ্চিৎকর নয়। নওডাঙ্গা রেডিয়েন্ট জন্ম দিয়েছে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার এবং বিদেশে গবেষণারত উজ্জ্বল নক্ষত্র, সরকারি উচ্চপদে আসীন অনেক সফল কর্মকর্তা। সকলের নিকট বিদ্যালয়টির উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
| বিবরণ | সংখ্যা | |
|---|---|---|
| শিক্ষক-শিক্ষিকা | - | ১২জন |
| এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা | - | ১২জন |
| নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা | - | ০জন |
| ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী | - | ৬জন |
| এমপিওভুক্ত কর্মচারী | - | ৬জন |
| ছাত্র-ছাত্রী | - | ২৯৩জন |